ট্রাম্পের হুমকি: ইরানের নতুন নেতা মোজতবাকেও হত্যার ইঙ্গিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির বিরুদ্ধে হত্যার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরিরাও চলমান সংঘাতের মধ্যে নিহত হতে পারেন।
ট্রাম্পের বক্তব্য: নেতৃত্ব দ্রুত কমছে
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের (ইরান) নেতৃত্ব খুব দ্রুত কমে যাচ্ছে। যে–ই নেতা হতে চায়, শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘খুব শক্ত অবস্থানে’ আছে এবং দেশের সামরিক শক্তির প্রশংসা করেন।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে মার্কিন সামরিক শক্তির উপর জোর দিয়ে বলেন, ‘বিশ্বে আমাদের সামরিক বাহিনীর মতো শক্তিশালী আর কেউ নেই। আমরা এখন খুবই শক্ত অবস্থানে আছি।’ তিনি একটি রেটিং সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল ১০–এর মধ্যে কত দেব? আমি বলেছি, প্রায় ১৫।’ যা মার্কিন অবস্থানের আত্মবিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে।
ইরানে নতুন নেতা নির্বাচন
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। দীর্ঘ ৩৬ বছর তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যুর পর দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি।
বুধবার ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বিপ্লবী গার্ডের চাপে ইরানের এসেম্বলি অব এক্সপার্ট মোজতবাকে নতুন লিডার হিসেবে নির্বাচিত করেছে। এই নির্বাচন ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর কেড়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই হুমকি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানের নতুন নেতৃত্বের উপর এই চাপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পরবর্তী পর্যায় হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে ট্রাম্পের বক্তব্য সংঘাতের সম্ভাব্য বিস্তারকে ইঙ্গিত করে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং মার্কিন নীতির পরবর্তী ধাপের দিকে নজর রাখছে।
