ইরান-ইসরায়েল সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে, হিজবুল্লাহর অংশগ্রহণে হামলা তীব্র
ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, যেখানে লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী ইরানের পক্ষে যোগ দিয়েছে। দুই পক্ষ সমন্বিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে আঘাত হানছে, অন্যদিকে ইসরায়েলও তেহরান ও লেবাননে হিজবুল্লাহর স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংঘাত উপসাগরীয় এলাকায় প্রসারিত হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।
বহু দেশে ইরানের হামলা ও প্রতিক্রিয়া
গতকাল ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, এবং দুবাইয়ে পুনরায় হামলা চালিয়েছে, যেখানে প্রথমবারের মতো একটি ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের দিকে ছোঁড়া হয়েছিল। ন্যাটো বাহিনী সেই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে, ভারত মহাসাগরে ইরানের একটি জাহাজে হামলা চালিয়ে ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যাতে অন্তত ৮০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে এই হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে, কারণ জাহাজটিতে প্রায় ১৮০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির এক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার স্পষ্ট করেছেন যে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো ইচ্ছা রাখে না এবং দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, "আমাদের আমেরিকানদের ওপর কোনো আস্থা নেই এবং তাদের সঙ্গে আলোচনার কোনো ভিত্তি নেই। আমরা চাইলে যতদিন খুশি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারব।" এই বক্তব্য ইরানের দৃঢ় অবস্থানকে তুলে ধরে, যা সংঘাতের স্থায়িত্ব নির্দেশ করছে।
ইসরায়েলের পাল্টা হামলা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তারা ইরানের নতুন দফার হামলার জবাবে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং গত কয়েক ঘণ্টায় ইসরায়েলে সতর্ক সংকেত বাজানো হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে যে ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রজেক্টাইলগুলি আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। এছাড়া, ইরানপন্থি হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের সদরদপ্তর এবং একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণকারী সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আঞ্চলিক প্রভাব ও মার্কিন ভূমিকা
সংঘাতের প্রভাবে কুয়েত একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছে, অন্যদিকে কাতার ও সৌদি আরব ইরানের হামলা প্রতিহত করতে ব্যস্ত। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দাবি অনুযায়ী, ইরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, এবং যুক্তরাষ্ট্র সেই ইউনিটের নেতাকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, "এটি কখনো একটি ন্যায্য লড়াই হওয়ার কথা ছিল না, এবং এটি একটি ন্যায্য লড়াইও নয়।" মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসান্তের মতে, ইরানের আকাশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন আমেরিকার হাতে, যা সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মানবিক ক্ষয়ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৯৭ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। ইসরায়েল নতুন করে ইরানে হামলা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে তারা ইরানের দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। পূর্ব তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর এবং লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা চলমান থাকায় এই সংঘাতের সমাধান অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে।
