মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, নিহত ৬ সেনা
মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে লাল তারকা চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোতে ইরানের হামলার ফলে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি প্রকাশ পাচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে অন্তত ৯টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনের স্থাপনাগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুয়েতে হামলা: অস্থায়ী অপারেশন সেন্টারে আগুন, ৬ সেনা নিহত
কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে অবস্থিত একটি অস্থায়ী মার্কিন অপারেশন সেন্টারে রোববার সকালে ইরানের হামলায় আগুন ধরে যায়, ফলে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন সেনাসদস্য নিহত হন। হামলার পর স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তিনটি বড় ট্রেইলারের ভেতরের অংশ পুড়ে কালো হয়ে গেছে এবং নিরাপত্তা বা প্রতিরক্ষার তেমন কোনো চিহ্ন সেখানে লক্ষ্য করা যায়নি।
ড্রোন আক্রমণ: ক্যাম্প বুয়েহরিংয়ে ভবন ধ্বংস
কুয়েতের ক্যাম্প বুয়েহরিংয়ে মার্কিন অবস্থানে ইরানের তৈরি বলে ধারণা করা ‘আরশ ২’ ড্রোন হামলা চালায়, যার ফলে একটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘাঁটির ভেতরে পার্ক করা মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো অল্পের জন্য রক্ষা পায়, যা হামলার তীব্রতা নির্দেশ করে।
বাহরাইনে নৌবহর ঘাঁটিতে স্যাটেলাইট টার্মিনাল ধ্বংস
বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোন আঘাত হানে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কিন নৌবহর হিসেবে পরিচিত। এই হামলায় একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ধ্বংস হয়, এবং স্যাটেলাইট চিত্রে গুদামঘরসহ অন্যান্য স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। অন্তত পাঁচটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ধ্বংস করা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল নিয়েছে।
হামলার পটভূমি: ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলার প্রতিশোধ
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিহত হওয়ার পর ইরান এর কঠোর জবাব দিচ্ছে, এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে আক্রমণ তারই একটি অংশ। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে, কারণ এই ঘাঁটিগুলো ইরানের তুলনামূলকভাবে কাছের অবস্থানে রয়েছে।
নজিরবিহীন হামলা: বিপুলসংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার
ইরান এবার নজিরবিহীনভাবে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে, যদিও মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট বেশির ভাগ ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে যেগুলো প্রতিরক্ষা ভেদ করে ভেতরে ঢুকেছে, সেগুলো তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা বলয় ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার নিরাপত্তাকাঠামোর হৃৎপিণ্ডেও গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা ইরানের সামরিক শক্তি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা নির্দেশ করছে। পুরো অঞ্চলজুড়েই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার এমন ধরন দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যত সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
