যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকারোক্তি: ভারত মহাসাগরে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়েছে মার্কিন সাবমেরিন
ভারত মহাসাগরের শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার দায় স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় জাহাজটি সম্পূর্ণরূপে ডুবে গেছে।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
পিট হেগসেথের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানি যুদ্ধজাহাজটি নিজেদের আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপদ মনে করছিল। কিন্তু একটি মার্কিন সাবমেরিন গোপনে অবস্থান নিয়ে সেটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। হেগসেথ এই হামলাকে 'নিভৃত মৃত্যু' বলে অভিহিত করেছেন, যা যুদ্ধজাহাজটির আকস্মিক ও নিঃশব্দ ধ্বংসের ইঙ্গিত দেয়।
ডুবে যাওয়া জাহাজের বৈশিষ্ট্য
ডুবে যাওয়া জাহাজটি ছিল আইআরআইএস ডেনা ফ্রিগেট, যা ইরানের নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। এটি নিম্নলিখিত অস্ত্র ও সরঞ্জামে সজ্জিত ছিল:
- ভারী কামান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র
- জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং টর্পেডো
- হেলিকপ্টার বহন করার ক্ষমতা
এই ফ্রিগেটটি ১৮০ জন ক্রু নিয়ে চলাচল করছিল এবং ভোরে বিপদে পড়ার সংকেত পাঠিয়েছিল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাহাজের ১০০ জনেরও বেশি নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, যা একটি বড় মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের পাল্টা হামলার সম্ভাবনা
হেগসেথ ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই ঘটনার পরও ইরান কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম হতে পারে এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এটি আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এই ঘটনাটি ভারত মহাসাগরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান বৈরিতা এই হামলার মাধ্যমে নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কেড়েছে।
