হরমুজ প্রণালিতে কন্টেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইঞ্জিন কক্ষে আগুন
ওমানের উত্তরে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার পর জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে আগুন ধরে যায়, যা সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা যুক্তরাজ্যে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিবেশগত কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সংস্থাটি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সম্ভাব্য ব্যাঘাতের দিকে নজর রাখছে।
ইরানের হুঁশিয়ারি ও কঠোর অবস্থান
এই ঘটনার আগে ইরান সরকার হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। তেহরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, কোনো জাহাজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড ও নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানের কথাও জানানো হয়, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে। এই পদক্ষেপগুলি হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহনের উপর সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব ও জ্বালানি বাণিজ্য
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে যার বার্ষিক আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি, কারণ ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল ও এলএনজি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই পথেই পরিবহন করা হয়।
এই হামলা ও ইরানের হুঁশিয়ারি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে তেলের দাম ও সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলতে পারে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এখনও ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।
