ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ক্ষতি, প্রথম চার দিনেই বড় ধাক্কা
ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ক্ষতি

ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ক্ষতি, প্রথম চার দিনেই বড় ধাক্কা

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের প্রথম চার দিনেই যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের আর্থিক ও সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।

কাতারের বিমানঘাঁটিতে মার্কিন রাডার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত

সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেখানে থাকা মার্কিন রাডার সিস্টেম এএন/এফপিএস-১৩২ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এই রাডার সিস্টেমটি মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাড মিসাইল সিস্টেমের রাডার ধ্বংস

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস শিল্প এলাকায় স্থাপিত অত্যাধুনিক থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণেও সেখানে হামলার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই রাডারটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, যা এখন সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

কুয়েতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, ২৮২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি

রবিবার কুয়েতে তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ভুলবশত এগুলো ভূপাতিত করে, যদিও এতে ৬ জন ক্রু সদস্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। তবে প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের তিনটি বিমানই সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে, যা মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য একটি বড় অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর যোগাযোগ টার্মিনাল ধ্বংস

বাহরাইনের মানামায় মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দফতরেও ইরান হামলা চালিয়েছে। এতে ২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের দুটি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন টার্মিনাল (এএন/জিএসসি-৫২বি) ধ্বংস হয়েছে, যা মার্কিন নৌবাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুতর বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।

অন্যান্য এলাকায় হামলা ও প্রসারিত ক্ষয়ক্ষতি

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এসব হামলা কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি, এরবিল বিমানবন্দর, জেবেল আলি বন্দর এবং রিয়াদ ও দুবাইয়ের মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েতের আরিফজান ক্যাম্পে হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশনেও হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা মার্কিন গোয়েন্দা কার্যক্রমে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এই সামগ্রিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র শুধু সামরিক নয়, আর্থিক দিক থেকেও ব্যাপক চাপের মুখোমুখি হচ্ছে। আনাদোলু এজেন্সির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রথম চার দিনের এই ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে প্রভাবিত করতে পারে, যা ভবিষ্যৎ কৌশলগত পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করতে পারে।