মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ সামরিক প্রস্তুতি: ইরানের ওপর চলছে সমন্বিত আক্রমণ
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ সামরিক প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ সামরিক প্রস্তুতি: ইরানের ওপর চলছে সমন্বিত আক্রমণ

ইরানের ওপর চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশাল শক্তির সমাবেশ ঘটিয়েছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সর্ববৃহৎ সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই অভিযানে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা সরাসরি অংশ নিচ্ছে। সেনাসদস্যদের পাশাপাশি ২০০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, দুইটি বিশাল বিমানবাহী রণতরি এবং একাধিক শক্তিশালী বোমারু বিমান এই হামলায় নিয়োজিত রয়েছে।

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে আরও সামরিক সহায়তা

কুপার আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এটিই শেষ নয়; বরং ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে এই অঞ্চলে আরও অধিকতর সামরিক সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। মার্কিন এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা অভিযানের লক্ষ্য সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল মনোযোগ বর্তমানে সেইসব ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার দিকে, যেখান থেকে মার্কিন বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুপার দাবি করেছেন যে, মার্কিন অভিযানে ইরানের নৌবাহিনী মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এবং তাদের সবচেয়ে কার্যকর সাবমেরিনসহ অন্তত ১৭টি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সমুদ্রের তলদেশ থেকে শুরু করে আকাশপথ এবং সাইবারস্পেস পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে ইরানের ওপর নিরবচ্ছিন্ন ও সমন্বিত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা

অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই অভিযানের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন যে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বিশেষ করে তাদের নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ছাড় দিচ্ছে না। পেন্টাগনের এই তৎপরতা প্রমাণ করে যে, তারা ইরানকে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক ও কৌশলগত সংকটের মুখে ঠেলে দিতে চায়।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মার্কিন বাহিনীর এই আকস্মিক ও ব্যাপক মাত্রার আক্রমণ ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সুযোগকে সংকুচিত করে দিচ্ছে। অভিযানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো মার্কিন বোমারু বিমানের নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধি

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এই বিশাল সামরিক প্রস্তুতির ফলে এক চরম উত্তেজনার কেন্দ্রে অবস্থান করছে। মার্কিন সেন্টকম প্রধানের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ওয়াশিংটন এই অভিযানকে কেবল একটি সীমিত আক্রমণ হিসেবে দেখছে না, বরং ইরানের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক মহলে এই অভিযান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের নিয়ে সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছে। সমুদ্র ও আকাশে মার্কিন আধিপত্য বজায় রেখে তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা অব্যাহত রেখেছে।