মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বিমান বাংলাদেশের ৬ রুটে ফ্লাইট বাতিল, চলবে ৫ মার্চ পর্যন্ত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও আকাশপথে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত এই অঞ্চলের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিমানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়, যা যাত্রী ও বিমান চলাচলে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
বাতিলকৃত ফ্লাইট রুটের তালিকা
বিমানের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজা; সৌদি আরবের দাম্মাম; কাতারের দোহা এবং কুয়েত রুটে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। এই রুটগুলো মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবসা ও শ্রমবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ফলে হাজার হাজার যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে।
বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে যাত্রীদের বাতিল হওয়া ফ্লাইটের পরবর্তী শিডিউল বা সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আকাশপথের উত্তেজনা নিরসন ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না।
আকাশসীমা বন্ধের প্রভাব ও ফ্লাইট বাতিলের পরিসংখ্যান
সূত্রমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আকাশপথ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সূচি তছনছ হয়ে গেছে, যার ফলে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসুবিধা দেখা দিয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৩৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি এবং ২ মার্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। সব মিলিয়ে গত পাঁচ দিনে মোট ১৪৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যা বিমান চলাচলে একটি সংকটপূর্ণ অবস্থা সৃষ্টি করেছে।
যাত্রীদের জন্য পরামর্শ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিমানের পক্ষ থেকে যাত্রীদের নিয়মিত বিমানের কল সেন্টার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা এবং বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি অব্যাহত থাকলে এই ফ্লাইট বাতিলের মেয়াদ বাড়তে পারে, যা আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এই সিদ্ধান্ত যাত্রী সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিচ্ছে, তবে এটি সামগ্রিক বিমান পরিবহন খাতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
