ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭, রেড ক্রিসেন্ট ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য প্রকাশ
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই হামলা গত শনিবার থেকে শুরু হয়ে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্রতা বজায় রেখেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
নিহতদের মধ্যে শিশু ও বেসামরিক নাগরিকের উচ্চ সংখ্যা
মার্কিন ভিত্তিক ইরানের মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর প্রতিবেদন অনুসারে, নিহতদের মধ্যে ১৭৬ জন শিশু এবং মোট ৭৪২ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এই পরিসংখ্যানটি সংঘাতের ভয়াবহতা ও বেসামরিক জনগণের উপর এর প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশু ও অসহায় নাগরিকদের এই উচ্চ মৃত্যুহার মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হাসপাতালে হামলা ও ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য
ইরানি পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিটির সদস্য ফাতেমেহ মোহাম্মদবেগি সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন যে, ইরানের নয়টি হাসপাতালে সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এই হামলাগুলোকে মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, এই সংঘাতে ইরানের ১৫৩টি শহর এবং ৫০০টিরও বেশি কৌশলগত অবস্থান লক্ষ্য করে এক হাজারের বেশি বার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। এই ব্যাপক আক্রমণ দেশটির অবকাঠামো ও জনজীবনে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।
তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল হামলা নিয়ে বিতর্ক
অন্যদিকে, তেহরানের গান্ধী হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগের জবাবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে যে, হাসপাতালটি তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল না এবং সেখানে কোনো হামলা চালানো হয়নি। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট ভাষায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উভয় দেশকে এই হামলার জন্য দায়ী করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।
এই সংঘাতের পটভূমিতে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতি ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাটি এখনও চলমান থাকায় নিহত ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
