ইরানের অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় স্কুল-হাসপাতালে নিহত, যুদ্ধাপরাধের দাবি
ইরানের অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যুদ্ধাপরাধ

ইরানের তীব্র অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বেসামরিক লক্ষ্যে হামলা চালিয়ে যুদ্ধাপরাধ করছে

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করছে। মঙ্গলবার এক সরকারি বিবৃতিতে তেহরান এই দাবি উত্থাপন করে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

স্কুল ও হাসপাতালে হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির খবর

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম দিনেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে সংঘটিত হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ঘটনাটি শিশু ও নারীদের ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ।

এ ছাড়া, তেহরানের একটি হাসপাতালেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। এই হামলাগুলো চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্য: সুপরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, হামলাকারীরা সবচেয়ে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম ও নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ব্যবস্থার দাবি করলেও এসব হামলা চালানো হয়েছে বেসামরিক জীবনকে অচল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে

তিনি আরও স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক সুপরিকল্পিতভাবে বেসামরিক অবকাঠামো, চিকিৎসা কেন্দ্র, স্কুল এবং সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। বাঘায়ির মতে, এটি স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর নিন্দা ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি রাখে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মার্কিন প্রতিক্রিয়া: তদন্ত ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আডানোম গেব্রিয়াসিস সোমবার জানিয়েছেন, তারা তেহরানের গান্ধী হাসপাতালে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি যাচাই করছেন। এই তদন্ত প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরছে।

অন্যদিকে, স্কুলে হামলার বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেছেন, চলমান সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের খবর সম্পর্কে আমরা অবগত। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রতিবেদনগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে এবং খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যা সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের ইঙ্গিত দেয়।

এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যেখানে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।