ইরানি হুমকি মোকাবিলায় ফ্রান্সের রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েন
ইরানি হামলার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ফ্রান্স সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজেদের নৌ ও বিমান ঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদার করতে রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারো মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফরাসি ঘাঁটির নিরাপত্তায় রাফাল বিমানের ভূমিকা
ফ্রান্সের শত শত নৌ, বিমান ও সেনা কর্মী সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা ঘাঁটিতে ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারো বিএফএমটিভি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, "এই রাফাল বিমান ও তাদের পাইলটরা আমাদের সুবিধাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত রয়েছেন।" তিনি উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহান্তে ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে ফ্রান্সের পদক্ষেপের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
ব্যারো আরও বলেন, "তারা আমাদের ঘাঁটির উপর আকাশসীমা নিরাপদ রাখতে অপারেশন চালিয়েছে।" রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি ফরাসি ঘাঁটির হ্যাঙ্গারে ড্রোন হামলা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধে আলোচনা
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারো জানান, ভবিষ্যৎ হামলা থেকে দেশটি কীভাবে নিজেকে রক্ষা করবে এবং ফ্রান্স কীভাবে সেখানে নিজের স্বার্থ রক্ষা করবে তা নির্ধারণে আলোচনা বাড়ছে। তিনি বলেন, "আলোচনা বাড়ছে যাতে ভবিষ্যৎ হামলা থেকে দেশটি কীভাবে নিজেকে রক্ষা করবে এবং ফ্রান্স কীভাবে সেখানে নিজের স্বার্থ রক্ষা করবে তা নির্ধারণ করা যায়।"
ফ্রান্সের বিমানবাহী রণতরী চার্লস দ্য গল উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রয়েছে বলে ব্যারো উল্লেখ করেন। এটি পূর্বপরিকল্পিত বহুজাতিক সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে সেখানে অবস্থান করছে। ভূমধ্যসাগরে পাঠানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার জানামতে এটি গতিপথ পরিবর্তন করেনি।
অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের উপর হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইকে হত্যা করেছে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ জানায়, ফুজাইরাহ আমিরাতের একটি তেল শিল্প অঞ্চলে ড্রোন বাধাদানের ধ্বংসাবশেষে আগুন লাগে, যা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সোমবার আবুধাবিতে একটি ড্রোন হামলায় জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনালে আগুন লাগে, যদিও কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি।
প্রযুক্তি খাতেও আঘাত
প্রযুক্তি জায়ান্ট আমাজন সোমবার দেরিতে জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের দুটি ডেটা সেন্টার "সরাসরি ড্রোন দ্বারা আক্রান্ত" হয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে ক্লাউড সেবা বিঘ্নিত হয়েছে। এই ঘটনা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর উপর হামলার নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।
ফ্রান্সের এই সামরিক পদক্ষেপ উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা প্রকাশ করে। নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।



