ইরানে সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যু: তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বা ক্রান্তিকালীন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রাণঘাতী হামলায় খামেনির প্রায় ৩৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটলে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
পরিষদের সদস্যরা কে?
রোববার (১ মার্চ) শক্তিশালী সাংবিধানিক তদারকি পর্ষদের সদস্য আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফিকে এই কাউন্সিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিষদের অন্য দুই সদস্য হলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই। এই তিন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত পরিষদ ইরানের শাসনব্যবস্থায় সাময়িক শূন্যতা পূরণে কাজ করবে।
সংবিধানিক প্রক্রিয়া কী বলে?
ইরানের বর্তমান সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই তিন সদস্যের কাউন্সিল ততক্ষণ পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবে যতক্ষণ না ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ সভা বা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ একজন নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল বর্তমানে দেশ শাসনের ভার গ্রহণ করলেও বিশেষজ্ঞ সভাকে অবশ্যই 'যত দ্রুত সম্ভব' পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা বেছে নিতে হবে।
দীর্ঘ কয়েক দশকের স্থিতিশীল নেতৃত্বের পর ইরানের শাসনব্যবস্থায় যে সাময়িক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এবং দ্রুত ক্ষমতার রূপান্তর নিশ্চিত করতেই এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। এই প্রক্রিয়া ইরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র: আল জাজিরা। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন একটি জরুরি সাংবিধানিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
