মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের জরুরি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ: ১৪ দেশের তালিকা প্রকাশ
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের জেরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনের বেশি দেশ থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার জরুরি নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার দেওয়া এই নির্দেশনায় সৌদি আরব ও কাতারসহ মোট ১৪টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা একটি অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সতর্কতার আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক সর্বশেষ সতর্কতার আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকা নিম্নরূপ:
- বাহরাইন
- মিসর
- ইরান
- ইরাক
- ইসরায়েল
- অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা
- জর্ডান
- কুয়েত
- লেবানন
- ওমান
- কাতার
- সৌদি আরব
- সিরিয়া
- সংযুক্ত আরব আমিরাত
- ইয়েমেন
পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী সচিব মোরে নামদার সামাজিক মাধ্যম এক্সে (পূর্বে টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তালিকাভুক্ত দেশগুলো থেকে বাণিজ্যিক পরিবহণ ব্যবহার করে এখনই দেশ ত্যাগ করতে হবে।
নিরাপত্তা হুমকি ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এদিকে, জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, নিরাপত্তা হুমকির কারণে তাদের কর্মীরা কূটনৈতিক স্থাপনা ত্যাগ করেছেন। ওয়াশিংটন থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক প্যাটি কালহেনের মতে, সামাজিক মাধ্যমে এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার এমন ঘোষণা অস্বাভাবিক, কারণ সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র সরকার নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ও কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আকাশপথে চলাচল ব্যাহত থাকায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে মার্কিন নাগরিকদের কীভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পটভূমি: সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপট
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়, যাতে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা নিহত হন। এর জবাবে ইরানও অঞ্চলজুড়ে পালটা হামলা শুরু করে, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে তা আরও দীর্ঘ হতে পারে।
এর আগে কয়েক দিনে অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে এসব দেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বর্তমান নির্দেশনা আরও কঠোর ও জরুরি প্রকৃতির, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
