ইরানের হুমকি: হরমুজ প্রণালী বন্ধ, তেল পরিবহনে হামলার সতর্কতা
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দেশটির বিপ্লবী গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির একজন ঊর্ধ্বতন কমান্ডার ঘোষণা দিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন, এই প্রণালী দিয়ে যেকোনো ধরনের জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তাদের উপর তৎক্ষণাৎ হামলা চালানো হবে।
কমান্ডারের হুমকি ও প্রতিশোধের ঘোষণা
সোমবার, ২ মার্চ তারিখে আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফের একজন সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রণালীটি এখন বন্ধ। যদি কেউ অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তাহলে বিপ্লবী গার্ড এবং নিয়মিত নৌবাহিনীর বীররা সেই জাহাজগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেবে।’ তার এই বক্তব্য ইরানের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়েছে।
জাবারি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা তেল পাইপলাইনগুলিতেও আক্রমণ করব এবং এক ফোঁটা তেলও এই অঞ্চল ছেড়ে যেতে দেব না। আগামী দিনে তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাবে।’ এই হুমকি ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
পটভূমি: ইসরাইল-মার্কিন হামলা ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি ও মার্কিন বোমা হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এখন বিশ্বের জ্বালানি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। ইসরাইল-মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হত্যার অভিযোগ উঠেছে, যা এই সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলছে।
আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা ইব্রাহিম জাবারিকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘হাজার হাজার বিলিয়ন ডলার ঋণগ্রস্ত আমেরিকানরা এই অঞ্চলের তেলের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু তাদের জানা উচিত যে এক ফোঁটা তেলও তাদের কাছে পৌঁছাবে না।’ এই মন্তব্য ইরানের কঠোর অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও বৈশ্বিক প্রভাব
ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটগুলির মধ্যে একটি হিসেবে পরিচিত। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যাতায়াত করে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবারের শুরুতেই জ্বালানির দাম তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচলে ব্যাঘাত এবং উৎপাদন সুবিধার ক্ষতির ফলে ইরানের উপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলা বিশ্ব অর্থনীতিতে সরবরাহের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের হুমকি ও পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, এবং ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে।
