ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা: বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ঝুঁকি বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ফলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট তীব্র হতে পারে।
হামলার বিস্তার ও প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় আক্রমণ চালাচ্ছে। সোমবারের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে গ্যাস ও তেল শোধনাগার বন্ধ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় ইরান তাদের সহজ লক্ষ্য বেছে নিয়েছে।
সৌদি আরব তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার রাস তানুরা রিফাইনারি বন্ধ করেছে, যার দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা সাড়ে পাঁচ লাখ ব্যারেল। কাতারও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন স্থগিত করেছে, যা বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের ২০ শতাংশ। কুয়েতের আহমাদি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলায় দুই কর্মী আহত হয়েছেন।
বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাব
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় তেলের দাম ১৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮২ ডলারে উঠেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। নরওয়েভিত্তিক রিস্টাড এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়োর্গে লেওন বলেছেন, "এটা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। আগামী দিনগুলোতে তেল ও গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে দিনে এক কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা বিশ্বের দৈনিক তেল ব্যবহারের ১০ শতাংশ। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আরাং কেশাভারজিয়ান সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ইরানের কৌশল ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করছে। ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের টরবজর্ন সলটভেডট বলেন, "ইরান তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্য পথ ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে, যা সামনে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।"
লন্ডনের কিংস কলেজের রব গেইস্ট পিনফোল্ড উল্লেখ করেছেন, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে সহজ লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে, কারণ এসব দেশ যুদ্ধে আগ্রহী নয়। সৌদি আরবের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের হামলার মুখে ছেড়ে দিয়েছে।
এই সংকটের ফলে খাদ্য ও নিত্যপণ্য সরবরাহেও টান পড়তে পারে, কারণ উপসাগরীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে আমদানি করে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে।
