স্পেনের অনুমতি না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ যুদ্ধবিমান সরিয়ে নেওয়া, জার্মানিতে আশ্রয়
স্পেনের অনুমতি না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ যুদ্ধবিমান সরানো

স্পেনের অনুমতি না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ যুদ্ধবিমান সরিয়ে নেওয়া

স্পেনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ১৫টি যুদ্ধবিমান সরিয়ে নিয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের রোটা ও মোরন ঘাঁটি ত্যাগ করে এসব বিমান অন্যত্র চলে গেছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানে হামলার জন্য তার দেশ কোনো সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না।

স্পেনের কঠোর অবস্থান ও মার্কিন বিমানের স্থানান্তর

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবারেস বলেন, ‘স্পেনের ঘাঁটিগুলো এই অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে না এবং জাতিসংঘের সনদ কিংবা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাইরে কোনো কাজে এগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।’ এই কঠোর অবস্থানের কারণে মার্কিন বিমানগুলো মূলত জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছে। ফ্লাইটরাডার ২৪-এর মানচিত্র অনুযায়ী, মোরন বিমানঘাঁটি থেকে নয়টি ‘বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার’ (আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান) জার্মানির দিকে রওনা হয়েছে। এছাড়া রোটা নৌঘাঁটি থেকে আরও ছয়টি বিমান দক্ষিণ ফ্রান্স ও অন্যান্য অঘোষিত গন্তব্যে চলে গেছে।

স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্গারিটা রোবলস নিশ্চিত করেছেন যে, সরিয়ে নেওয়া এসব বিমানের বেশির ভাগই স্পেনে স্থায়ীভাবে মোতায়েন ছিল। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ হামলাকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তার এই অবস্থান ওয়াশিংটনের সঙ্গে মাদ্রিদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের ভূমিকা ও পরিবর্তিত অবস্থান

এদিকে স্পেনের মতো শুরুতে যুক্তরাজ্যও তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে গত রবিবার (১ মার্চ) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সুর নরম করেন। তিনি ‘সম্মিলিত আত্মরক্ষার’ দোহাই দিয়ে ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো থেকে ইরানবিরোধী ‘সীমিত ও সুনির্দিষ্ট রক্ষণাত্মক’ হামলার অনুমতি দিয়েছেন। তবে ব্রিটিশ সরকার স্পষ্ট করেছে যে, তারা সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নেবে না। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে স্পেন অনুমতি দিতে অস্বীকার করলেও যুক্তরাজ্য সীমিত সহযোগিতার পথ বেছে নিয়েছে।

এই ঘটনাটি ইরান সংক্রান্ত বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্পেনের দৃঢ় অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়িয়ে তুলতে পারে। ভবিষ্যতে এই ইস্যুটি আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।