ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান: ট্রাম্পের সময়সীমা ও হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি ধারণা দিয়েছেন যে এই অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে, প্রয়োজনে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প তার আগের দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে এই বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
ট্রাম্পের সাক্ষাৎকার ও যুদ্ধের সম্ভাব্য দীর্ঘায়ন
এর আগে গত রবিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযান চার বা পাঁচ সপ্তাহ চলতে পারে। ট্রাম্প সোমবারের ভাষণে আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনে আরও দীর্ঘ সময় লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে আমি এতে মোটেই বিরক্ত হব না।’ তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, মার্কিন প্রশাসন যুদ্ধের সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়ার জন্য মানসিক ও সামরিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানের সূচনা ও উদ্দেশ্য
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করতেই এই ‘সর্বাত্মক’ অভিযান চালানো হচ্ছে। এই হামলার পরপরই ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করে এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি প্রধান রুট হিসেবে বিবেচিত হয়, যা যুদ্ধের আন্তর্জাতিক প্রভাব বাড়িয়ে তুলছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সস্তা ড্রোন হামলা ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতি যুদ্ধের গতিপথ ও স্থায়িত্বকে জটিল করে তুলতে পারে। অন্যদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ বিশ্বের বিভিন্ন নেতারা অবিলম্বে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে ফিরে আসার জন্য সকল পক্ষকে উদ্বুদ্ধ করছেন।
ট্রাম্পের অবস্থান ও কূটনৈতিক ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা
ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে তিনি সামরিক চাপ বজায় রাখতেই বেশি আগ্রহী। যুদ্ধের ঠিক দুই দিন আগে জেনেভায় মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল। সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের মার্কিন শর্ত ইরান প্রত্যাখ্যান করার পরই মূলত এই সংঘাতের সূচনা হয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান সেই কূটনৈতিক ব্যর্থতারই একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
এই সংঘাতের ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে এবং বৈশ্বিক তেল বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ ও ইরানের প্রতিক্রিয়া যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।
