ইরানে হামলার আগে জেনেভায় মার্কিন-ইরানি বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়
ইরানে হামলার আগে জেনেভায় মার্কিন-ইরানি বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

ইরানে হামলার আগে জেনেভায় মার্কিন-ইরানি বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার দুই দিন আগে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূতদের এক বৈঠক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।

বৈঠকের বিবরণ ও উত্তেজনার মুহূর্ত

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ ও জার্ড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি নিউজ উল্লেখ করে যে, আলোচনার একপর্যায়ে মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানের সামনে কঠোর শর্ত তুলে ধরেন।

এই শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল—আগামী ১০ বছর ইরান কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালাতে পারবে না। শর্তটি শোনার পর ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং চিৎকার শুরু করেন। আরাঘচি উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, 'ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের অবিচ্ছেদ্য অধিকার, এবং আমরা এটি কখনোই ত্যাগ করব না।'

মার্কিন প্রতিক্রিয়া ও বৈঠকের সমাপ্তি

এর জবাবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, 'ইরানকে থামানোও আমাদের অবিচ্ছেদ্য অধিকার, এবং আমরা আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।' পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ট্রাম্পের দূত আরাঘচিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'আপনি চাইলে আমরা আলোচনা থেকে এখনই বেরিয়ে যেতে পারি, কারণ এই ধরনের আচরণ কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।'

পরবর্তীতে উইটকোফ ও কুশনার পুরো বিষয়টি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করেন। বিদেশি একজন মন্ত্রী চিৎকার করে কথা বলেছেন শুনে ট্রাম্প নিজেও অবাক হন বলে জানা গেছে, যা মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়াকে আরো জটিল করে তোলে।

হামলা ও এর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ

জেনেভার এই ঘটনার দুই দিন পর শনিবার সকালে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলাটি আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর পরপরই ইরানও পাল্টা আক্রমণ শুরু করে, যা বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে জেনেভার বৈঠকের ব্যর্থতা সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপান্তরিত হওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সংঘাত বৈশ্বিক রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।