ট্রাম্পের ইঙ্গিত: প্রয়োজনে ইরানে স্থলসেনা পাঠানো হতে পারে
ট্রাম্পের ইঙ্গিত: ইরানে স্থলসেনা পাঠানো হতে পারে

ট্রাম্পের ইঙ্গিত: প্রয়োজনে ইরানে স্থলসেনা পাঠানো হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। নিউ ইয়র্ক পোস্ট পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, প্রয়োজন পড়লে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা তৃতীয় দিনে গড়ানোর পরই ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন।

স্থলসেনা পাঠানো নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান

ট্রাম্প বলেন, 'ইরানে মার্কিন স্থলসেনা পাঠানো নিয়ে আমার কোনো জড়তা নেই। অন্য প্রেসিডেন্টরা যেমন বলেন, স্থলভাগে কোনো সেনা মোতায়েন করা হবে না। আমি তা বলি না। আমি বলি, সম্ভবত তাদের (স্থলসেনা) প্রয়োজন নেই অথবা যদি প্রয়োজন হয় তবে পাঠানো হবে।' তার এই বক্তব্য ইরান সংকটে মার্কিন নীতির সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জনমত জরিপ নিয়ে ট্রাম্পের উদাসীনতা

ইরানে হামলার বিষয়ে জনমত জরিপে উঠে আসা অসন্তোষ নিয়েও ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ইপসোস-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ইরানে হামলার বিপক্ষে ৪৩ শতাংশ আমেরিকান মত দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তিনি এ নিয়ে চিন্তিত নন।

তিনি বলেন, 'জরিপের ফল খারাপ হোক বা না হোক, আমার মতে তা সম্ভবত ঠিকই আছে। তবে এটি জরিপের কোনো বিষয় নয়। আমাকে সঠিক কাজই করতে হবে।' ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এমন একটি দেশ যা 'উন্মাদ কিছু মানুষ' দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া যায় না।

সামরিক অভিযানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া আরেক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের একটি 'বিশাল ঢেউ' এখনো বাকি। বর্তমান অভিযানকে তিনি আরো বড় আকারের আক্রমণের কেবল শুরু বলে উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, 'আমরা এখনো তাদের ওপর কঠোর আঘাত শুরুই করিনি। বড় সেই ঢেউ এখনো আসেনি। বড় আঘাত খুব শিগগিরই আসছে।' সংঘাতের স্থায়িত্ব নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি চান না এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলুক। তিনি আগে ভেবেছিলেন এটি চার সপ্তাহ স্থায়ী হবে এবং অভিযান বর্তমানে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন।

যুদ্ধে বিস্ময় ও হতাহতের দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এই যুদ্ধে তার জন্য সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানের হামলা। প্রাথমিক হামলায় ইরানের অন্তত ৪৯ জন নেতা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের মতে, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানে মানুষ অত্যন্ত মুগ্ধ এবং এটি একটি 'নীরব বিষয়'। প্রকৃত বা নীরব জনমত জরিপ করলে নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পাওয়া যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার এই উন্নয়ন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।