ইরানে সরকার পরিবর্তন কঠিন: সাবেক সিআইএ পরিচালকের মূল্যায়ন
ইরানে সরকার পরিবর্তন কঠিন: সাবেক সিআইএ পরিচালক

ইরানে সরকার পরিবর্তন কঠিন: সাবেক সিআইএ পরিচালকের মূল্যায়ন

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিআইএ) সাবেক পরিচালক ডেভিড পেট্রাউস ইরানের শাসক গোষ্ঠীকে উৎখাত করাটা কঠিন বলে মনে করছেন। তার মতে, দেশটির সক্রিয় ও সংগঠিত সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি এই চ্যালেঞ্জের মূল কারণ।

সামরিক শক্তির প্রভাব

পেট্রাউস ব্যাখ্যা করেন, ‘সমস্যা হলো, কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বেশ কঠিন, যদি সেখানে লাখ লাখ সদস্যের সশস্ত্র বাহিনী মাঠে উপস্থিত থাকে।’ ইরানের সামরিক বাহিনীর শক্তি সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েন না করার ঘোষণা দিয়েছেন। পেট্রাউস এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, ‘ইরানে সরকার পরিবর্তন না হলেও এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে।’ তার মতে, হামলার মাধ্যমে কৌশলগত সুবিধা আদায় সম্ভব।

হামলার পটভূমি ও ফলাফল

পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর একযোগে হামলা চালায়। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন এবং তার প্রাসাদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। খামেনির পরিবারের সদস্যদেরও মৃত্যু হয়।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, খামেনির মৃত্যু সত্ত্বেও ইরানে মার্কিন মিশন শেষ হয়নি। তিনি বলেছেন, সম্পূর্ণ লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ হামলা চলতে থাকবে।

বর্তমান পরিস্থিতি

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, চলমান হামলায় কমপক্ষে ৫৫৫ জন নিহত এবং ১৩১টি ইরানি কাউন্টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান এখনও সক্রিয় রয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।

এই সংকটে পেট্রাউসের মূল্যায়ন ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ শক্তি বিবেচনায় সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা জটিল হতে পারে, তবে মার্কিন নীতির লক্ষ্য অর্জনের পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব।