ইরানের স্কুলে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১৫৩ শিশু নিহত, মৃতের সংখ্যা বাড়ছে
ইরানের স্কুলে বিমান হামলায় ১৫৩ শিশু নিহত, মৃতের সংখ্যা বাড়ছে

ইরানের স্কুলে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১৫৩ শিশু নিহত, মৃতের সংখ্যা বাড়ছে

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই নৃশংস হামলায় অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় সবাই শিশু। স্থানীয় গভর্নরের বরাত দিয়ে ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফারস নিউজ এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবরটি প্রথম প্রকাশ করে।

হামলার সময় স্কুলে ১৭০ জন ছাত্রী উপস্থিত ছিল

শনিবার সকালে হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবাহ স্কুলে এই হামলা চালানো হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করেছিল। নিহত শিশুদের বয়স সাত থেকে ১২ বছরের মধ্যে। হামলার সময় স্কুলটিতে ১৭০ জন ছাত্রী উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে।

স্কুলের এক কর্মী মিডল ইস্ট আই-কে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। শিশুদের আর্তনাদ ও চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। আমি প্রতিদিন এই শিশুদের খেলতে দেখতাম, আর হামলার পর ক্লাসরুমের বেঞ্চে ও স্কুলের আনাচে-কানাচে তাদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেছি।"

উদ্ধারকারী দল ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত মাত্রা উন্মোচন করে

উদ্ধারকারী দল আসার পর ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত মাত্রা বোঝা যায়। ভবনের নিচে এখনও কতজন চাপা পড়ে আছে, তা নিশ্চিত নয়। গুরুতর আহত অনেক শিশুকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, দেশজুড়ে এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র নিন্দা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, "শিশুদের এই মৃত্যুর জবাব দেওয়া হবে। দিনের আলোয় যখন স্কুলটি ছাত্রীতে ঠাসা ছিল, তখন সেখানে বোমা ফেলা হয়েছে। শুধু এই এক স্থানেই ডজন ডজন নিরপরাধ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।"

হামলা দেশের ২৪টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে

শনিবার সকালে তেহরানে বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই হামলা দ্রুত দেশটির ২৪টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে পবিত্র নগরী কোম, কারাজ, ইস্পাহান ও কেরমানশাহ শহরও রয়েছে। এই বিস্তৃত হামলার ফলে ইরানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এখনও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই হামলার পরিণতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করা হচ্ছে।