মধ্যপ্রাচ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি: ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তেহরানের এই নজিরবিহীন পাল্টা হামলায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, ওমান ও কাতারের আকাশসীমায় ইরানের হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে, যা অঞ্চলটির নিরাপত্তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাপ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ইরানের ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দুটি ক্রুজ মিসাইল এবং ৫৪১টি ড্রোন মোকাবিলা করেছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ইরানের হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
ওমান ও বাহরাইনে হামলার প্রত্যক্ষ প্রমাণ
ইরানের সঙ্গে সাধারণত সুসম্পর্ক বজায় রাখা ওমানের বন্দরনগরী দুকমেও একটি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা ইরানের হামলার ব্যাপকতা নির্দেশ করে। এছাড়া বাহরাইনের বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, তাদের লক্ষ্য প্রতিবেশী দেশগুলো নয়। তিনি বলেন, "আমরা উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে নয়, বরং এসব দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালাচ্ছি।" এই বক্তব্য ইরানের হামলার পেছনের কৌশলগত উদ্দেশ্য তুলে ধরে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
২০১৯ সালের পর সবচেয়ে বড় হামলা
খবরে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার পর এটিই উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সবচেয়ে বড় সরাসরি হামলা। এর ফলে তেহরানের সঙ্গে আরব রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক আরও তিক্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, এই হামলা আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে পরিচালিত করতে পারে, যদি না কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়।
