মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মাঝে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরে আটকে বাংলাদেশি জাহাজ 'এমভি বাংলার জয়যাত্রা'
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে বাংলাদেশি জাহাজ, নাবিকরা নিরাপদ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে বাংলাদেশি জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে আটকা পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ 'এমভি বাংলার জয়যাত্রা'। জাহাজটি গত শুক্রবার পণ্য নিয়ে ওই বন্দরে পৌঁছালেও পরিস্থিতির কারণে পণ্য খালাস কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। তবে সোমবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় পণ্য খালাস শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসসি কর্তৃপক্ষ।

নাবিকদের নিরাপত্তা ও পণ্য খালাসের অবস্থা

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেকের বক্তব্য অনুযায়ী, জাহাজে অবস্থানরত ৩১ জন নাবিক-ক্রু সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে নিয়মিত ভিডিও কলে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাহাজে পর্যাপ্ত পানি ও খাদ্যের মজুত রয়েছে, পাশাপাশি দৈনিক পাঁচ ডলার করে বাড়তি খরচের অর্থও প্রদান করা হচ্ছে।

কমডোর মালেক আরও উল্লেখ করেন, 'পণ্য খালাস শুরু হলেও জাহাজটি এখনও বন্দর ত্যাগ করতে পারবে না, কারণ ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত জাহাজকে বন্দরেই অবস্থান করতে হবে।'

মিসাইল হামলা ও অতীতের ঘটনার প্রতিধ্বনি

গত শনিবার রাতে জাহাজটির মাত্র ১০০ গজ দূরত্বে একটি মিসাইল হামলা ঘটে, যদিও এতে কোনো নাবিকের ক্ষতি হয়নি। তবে এই ঘটনা নাবিকদের পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও ভয়ের সৃষ্টি করেছে। বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে বিএসসির আরেক জাহাজ 'বাংলার সমৃদ্ধি' বোমা হামলার শিকার হয়েছিল, যাতে একজন বাংলাদেশি নাবিক নিহত হন এবং পরবর্তীতে জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

জাহাজের ইতিহাস ও বিএসসির অন্যান্য জাহাজের অবস্থা

'এমভি বাংলার জয়যাত্রা' জাহাজটি ২০১৮ সালে বিএসসির বহরে যুক্ত হয় এবং চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) দ্বারা নির্মিত হয়। চীন সরকারের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে কেনা এই জাহাজটির ধারণক্ষমতা ৩৯ হাজার টন। কমডোর মালেক জানান, বিএসসির মালিকানাধীন আরও ছয়টি জাহাজ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, লাইবেরিয়া, পাকিস্তান, সেনেগাল ও রাশিয়ার বিভিন্ন বন্দরে নিরাপদে রয়েছে।

এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলপথে বাংলাদেশি জাহাজগুলোর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে বিশ্বের সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনার সময়।