ট্রাম্পের দাবি: ইরানের উত্তরসূরি প্রার্থীদের নির্মূল করেছে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিতর্কিত দাবি করেছেন যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিনে সংঘটিত মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা এতটাই নিখুঁত ও সফল ছিল যে, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের প্রায় সকল সম্ভাব্য প্রার্থীই নিহত হয়েছেন। এবিসি নিউজের সাংবাদিক জনাথন কার্লকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
হামলার সফলতা ও প্রভাব
ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে বলেন, 'এই আক্রমণ এতটাই সফল ছিল যে এটি সম্ভাব্য অধিকাংশ প্রার্থীকে নির্মূল করে দিয়েছে। আমরা ইরানের নেতৃত্বের জন্য যাদের কথা ভাবছিলাম, তাদের কাউকেই এখন আর পাওয়া যাবে না, কারণ তারা সবাই মারা গেছে। তালিকায় থাকা দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানের ব্যক্তিরাও এখন মৃত।' এই মন্তব্য ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে ক্ষমতার হস্তান্তর কীভাবে ঘটবে—তা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এসেছে।
খামেনি হত্যার প্রসঙ্গ ও পূর্বের ষড়যন্ত্র
খামেনিকে হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, 'তিনি মারার আগেই আমি মেরে ফেলেছি। তারা দুবার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমিই আগে তাকে কুপোকাত করেছি।' এর আগে, ২০২৪ সালে বিচার বিভাগ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে হত্যার ব্যর্থ ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ফেডারেল চার্জ গঠন করেছিল। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম সন্দেহভাজন ফরহাদ শাকেরিকে ট্রাম্পের ওপর নজরদারি ও হত্যার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
ভেনেজুয়েলা মডেলের উল্লেখ ও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানেও ভেনেজুয়েলা মডেলে ক্ষমতা হস্তান্তর হতে পারে। চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'আমার মনে হয় আমরা ভেনেজুয়েলায় যা করেছি, সেটা একটা নিখুঁত উদাহরণ। সেখানে মাত্র দুইজন ব্যক্তি ছাড়া বাকি সবাই নিজ পদে বহাল রয়েছেন।' ইরানের নেতৃত্বে তিনি কাকে দেখতে চান—এ প্রশ্নের জবাবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে ট্রাম্প জানান, ইরানের নেতৃত্ব কে দিতে পারেন, সে ব্যাপারে তার কাছে তিনটা খুব ভালো পছন্দের নাম আছে। তবে নাম তিনটি প্রকাশ করেননি তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমি এখনই নামগুলো প্রকাশ করবো না। আগে কাজটা শেষ হোক।'
এই সাক্ষাৎকারগুলো ইরানের ভবিষ্যত নেতৃত্ব নিয়ে মার্কিন নীতির সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো ইরান-মার্কিন সম্পর্কের জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
