ট্রাম্প প্রশাসনের স্বীকারোক্তি: ইরানের আগাম হামলার গোয়েন্দা তথ্য ছিল না
ইরানের আগাম হামলার গোয়েন্দা তথ্য ছিল না: ট্রাম্প প্রশাসন

ইরানের আগাম হামলার গোয়েন্দা তথ্য ছিল না: ট্রাম্প প্রশাসনের স্বীকারোক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিশাল সামরিক হামলার মাত্র একদিন পর ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে জানিয়েছে, ইরান আগে থেকে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর কোনো গোয়েন্দা তথ্য তাদের হাতে ছিল না। এই বিষয়টি দুইজন সূত্র নিশ্চিত করেছেন, যারা ব্রিফিংয়ে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।

হামলার বিস্তারিত ও প্রভাব

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সংঘটিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন, ইরানের একাধিক যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয় এবং এক হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। তবে রোববার কংগ্রেসে দেওয়া ব্রিফিংয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন— মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর পূর্বাভাসে আক্রমণের কোনো প্রমাণ ছিল না।

এর আগে কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্রমণের সিদ্ধান্ত এককভাবে নিয়েছিলেন। এই শঙ্কায়, ইরান সম্ভবত আগাম হামলা চালাতে পারে। এক কর্মকর্তা বলেন, "ট্রাম্প শুধু বসে থাকতে পারতেন না এবং মার্কিন বাহিনীকে আক্রমণের শিকার হতে দেবেন না।"

কংগ্রেসে ব্রিফিং ও হুঁশিয়ারি

পেন্টাগনের কর্মকর্তারা সিনেট ও হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান স্টাফদের দেড় ঘণ্টার বেশি ব্রিফিং দিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করছে। তবে তাৎক্ষণিক হামলার কোনো তথ্য তাদের হাতে ছিল না।

ট্রাম্প হামলার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছেন— ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের ওপর সম্ভাব্য হুমকি দূর করা। এছাড়া তিনি ইরানের জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামারও আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা

ডেমোক্র্যাটরা এই যুদ্ধকে ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ বেছে নেওয়া হলো। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করার সক্ষমতা অর্জন করতে চলেছে। কিন্তু গোয়েন্দা সূত্রগুলো এই দাবি সমর্থন করে না, বরং তা অতিরঞ্জিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

হতাহতের তথ্য ও সামরিক কৌশল

এদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তিন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আরও কয়েকজন সামান্য আঘাত পেয়েছেন। হামলার মধ্যে বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ২,০০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্কের সূচনা করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।