ইরাকের এরবিলে বিস্ফোরণ: কাতার-আমিরাতের পর এবার ইরানের হামলার শিকার
ইরাকের এরবিলে বিস্ফোরণ, কাতার-আমিরাতের পর হামলা

ইরাকের এরবিলে বিস্ফোরণ: কাতার-আমিরাতের পর এবার ইরানের হামলার শিকার

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল বিমানবন্দরের কাছে সোমবার (২ মার্চ) জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই বিমানবন্দরটিতে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে।

ড্রোন ভূপাতিত ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

এর আগে এএফপির এক আলোকচিত্রী জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের কাছাকাছি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এরবিলের আকাশে একাধিকবার ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে। শহরটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় কনস্যুলেট কমপ্লেক্সও রয়েছে, যা নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কাতার ও আমিরাতেও বিস্ফোরণ

এই ঘটনার আগে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এছাড়াও প্রতিবেশী দেশ কাতারের রাজধানী দোহাতেও প্রায় অর্ধডজন বিকট শব্দ শোনা গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোহায় প্রায় ছয়টি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের হামলা এখনও অব্যাহত আছে এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা

প্রসঙ্গত, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু করা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, এ হামলায় মারা গেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। রোববার (১ মার্চ) দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলা জেরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের ঠিক পাশের বিভিন্ন গালফ দেশ এবং অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই সংঘাতের প্রভাব শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।