যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে ইরান, খামেনির মৃত্যুর পর উত্তেজনা
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন করে পারমাণবিক আলোচনায় যোগ দেওয়ার খবর নাকচ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স পোস্টে বলেছেন, "আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসব না"। এই প্রতিক্রিয়া এসেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি খবরের পর, যেখানে বলা হয়েছিল খামেনির মৃত্যুর পর ওমানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে লারিজানি নতুন করে আলোচনার চেষ্টা করেছেন।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সর্বশেষ আলোচনা
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সবশেষ আলোচনা হয় গত বৃহস্পতিবার জেনিভায়। এরপর সোমবার ভিয়েনায় আরেক দফা আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই শনিবার ইরানে হামলা চালিয়ে বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এই হামলায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হন।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। লারিজানির এই ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনায় আগ্রহী নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খামেনির মৃত্যু এবং পরবর্তী হামলা ইরানের নীতিতে পরিবর্তন এনেছে, যা আলোচনার সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
ওমানের মধ্যস্থতা এবং প্রতিক্রিয়া
ওমানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে লারিজানি নতুন করে আলোচনার চেষ্টা করেছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে লারিজানির সাম্প্রতিক বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এক্স পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন যে ইরান বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যেতে প্রস্তুত নয়।
এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। লারিজানির এই ঘোষণা পরামর্শ দেয় যে ইরান হয়তো ভবিষ্যতে আলোচনার পথ বন্ধ করে দিতে পারে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
ইরানের এই অবস্থান বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে। অনেক পর্যবেক্ষক আশঙ্কা করছেন যে এই অচলাবস্থা আরও সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যদি না উভয় পক্ষ কূটনৈতিক সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেয়।
