ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৩০টি বোমা নিক্ষেপ
ইসরায়েল-মার্কিন হামলায় ইরানের খামেনি নিহত, ৩০ বোমা

ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার তেহরানে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে ৩০টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়, যা সরাসরি খামেনিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুপরিকল্পিত হামলা

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইসরায়েল ও মার্কিন গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন ধরে খামেনির অবস্থান শনিবারের মতো একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, খামেনি শনিবার তিনটি ভিন্ন স্থানে সেনা কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বৈঠক করছিলেন। এই তিনটি স্থান আগে থেকেই চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং খুব নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল কোন স্থানে খামেনি উপস্থিত আছেন।

গোয়েন্দারা খামেনির খোঁজ পাওয়ার পরই হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েল ও মার্কিন গোয়েন্দারা জানতেন যে ঐ ঠিকানাগুলোতে রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন খামেনি। অবশেষে শনিবার সেই সুযোগ আসে এবং খামেনির দপ্তর লক্ষ্য করে একযোগে হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশ ও পালটা হামলার পরিকল্পনা

মার্কিন প্রশাসনের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের কাছে খবর ছিল যে ইরান আমেরিকার বেশ কিছু ঠিকানায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। এই আশঙ্কার প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। ইরানের খামেনি প্রশাসনও এই সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় আগে থেকেই পালটা হামলার পরিকল্পনা করছিল।

কিন্তু গোয়েন্দা সূত্রে সেই তথ্য আসতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানে হামলার নির্দেশ দেন। তারপরই শনিবার তেহরানে একযোগে মুহুর্মুহু হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় খামেনির প্রশাসনের বেশ কয়েকটি দপ্তর সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ইরানের বেশ কয়েকটি সেনাঘাঁটিও ধ্বংস করা হয়।

হামলায় নিহতদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতি

এই হামলায় শুধু খামেনিই নিহত হননি, তার সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন:

  • ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসেরজাদা
  • কমান্ডার ইন চিফ মোহাম্মদ পাকপোর
  • খামেনির মেয়েম জামাতা
  • খামেনির নাতনি

এই হামলা ইরানের জন্য একটি বড় ধরনের আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও, এটি আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।