ইরানে হামলা: মাত্র ২৭% মার্কিন নাগরিকের সমর্থন, ট্রাম্পের সামরিক নীতি নিয়ে উদ্বেগ
ইরানে হামলায় মাত্র ২৭% মার্কিনির সমর্থন, ট্রাম্প নীতি নিয়ে উদ্বেগ

ইরানে হামলায় মার্কিন জনমত: মাত্র ২৭% সমর্থন, ট্রাম্পের সামরিক নীতিতে উদ্বেগ

গত শনিবার ভোরে ইরানে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার প্রতি মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন আশ্চর্যজনকভাবে কম। রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথভাবে পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই হামলার প্রতি মাত্র ২৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন জানিয়েছেন। বিপরীতে, ৪৩ শতাংশ ব্যক্তি স্পষ্টভাবে এর বিরোধিতা করেছেন এবং ২৯ শতাংশ এ বিষয়ে অনিশ্চিত রয়েছেন।

ট্রাম্পের সামরিক নীতিতে অর্ধেকের বেশি মার্কিনির অস্বস্তি

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় সামরিক শক্তি ব্যবহারে অতি উৎসাহী। এই ধারণা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের এই নীতির সমালোচনা করেছেন। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও ২৩ শতাংশ এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এমন ৬০ শতাংশ ব্যক্তি একই মত পোষণ করেছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও শর্তযুক্ত সমর্থন

জরিপে আরও উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, রিপাবলিকানদের ৫৫ শতাংশ এই হামলায় সমর্থন দিলেও তাদের ৪২ শতাংশ একটি শর্তারোপ করেছেন। তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যে কোনো মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হন, তবে এই অভিযানের প্রতি তাদের সমর্থন কমে যেতে পারে। ইতিমধ্যে, চলমান অভিযানে তিন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রথম প্রাইমারি শুরু হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে এই হামলা চালানো হয়। জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় অর্থনীতি, যা পররাষ্ট্রনীতির তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস বা তেলের দাম বৃদ্ধি পায়, তাহলে ইরানবিরোধী অভিযানের প্রতি তাদের সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

হামলার সময়সীমা ও জনসচেতনতা

এই জরিপটি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলাকালেই পরিচালিত হয় এবং কোনো মার্কিন সেনার হতাহতের খবর আসার আগেই এর কাজ শেষ হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশ অন্তত কিছুটা এই হামলার বিষয়ে শুনেছেন বলে জানিয়েছেন, যা ঘটনাটির ব্যাপক প্রচার নির্দেশ করে।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ভেনেজুয়েলা, সিরিয়া ও নাইজেরিয়ায়ও হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এই হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন ও অনিশ্চিত সংঘাতের সূচনা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।