ইরানে যৌথ হামলায় মার্কিন জনমত: অর্ধেক নাগরিক বিরোধী, ট্রাম্প প্রশাসন চাপে
ইরানে হামলায় মার্কিন জনমত: অর্ধেক বিরোধী, ট্রাম্প চাপে

ইরানে যৌথ হামলায় মার্কিন জনমত: অর্ধেক নাগরিক বিরোধী, ট্রাম্প প্রশাসন চাপে

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক জনমত জরিপে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। রয়টার্স-ইপসোস পরিচালিত এই জরিপ অনুযায়ী, দেশটির প্রায় অর্ধেক নাগরিক সরাসরি এই হামলার বিরোধিতা করছেন। জরিপটি প্রকাশিত হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে পালটা হামলায় প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের জন্য চরম চাপ সৃষ্টি করেছে।

জরিপের ফলাফল: সমর্থন কম, বিরোধিতা বেশি

শনি (২৮ ফেব্রুয়ারি) ও রোববার (১ মার্চ) পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে, ৪৩ শতাংশ নাগরিক সরাসরি এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন এবং ২৯ শতাংশ তাদের মতামত নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক দলভিত্তিক বিশ্লেষণে আরও উল্লেখযোগ্য চিত্র ফুটে উঠেছে।

  • রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে সমর্থনের হার ৫৫ শতাংশ হলেও, তাদের ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন যে যদি এই যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি ঘটে, তবে তারা সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবেন।
  • ডেমোক্র্যাটদের ৭৪ শতাংশই এই হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন, যা দলীয় বিভাজনকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

ট্রাম্পের অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পর ট্রাম্প এই অভিযানকে একটি ‘ন্যায়সঙ্গত মিশন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা অন্তহীন যুদ্ধ বন্ধ করার নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ডগ ব্যান্ডোর মতে, “মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর খবর এই যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবতাকে সাধারণ মানুষের সামনে নিয়ে এসেছে। তারা এখন বুঝতে পারছেন এটি কোনো ভিডিও গেম নয়।”

অর্থনৈতিক প্রভাব ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতা

সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, যদি যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পায়, তবে তারা এই অভিযানের সমর্থন থেকে সরে আসবেন। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বেশ কিছু শিপিং কোম্পানি অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে, যা বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা এই যুদ্ধের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সেনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনসহ অনেক নেতা মনে করছেন, এটি ট্রাম্পের নিজের চাপিয়ে দেওয়া একটি যুদ্ধ। তারা দ্রুত একটি ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব পাসের দাবি জানিয়েছেন, যার মাধ্যমে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই এই বিষয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান, ইসরাইল এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ইতিমধ্যে কয়েকশ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও অস্থিরতা বিরাজ করছে।