ইরানে যৌথ হামলায় খামেনিসহ নিহত, ট্রাম্পের পাঁচ সপ্তাহের অভিযান ঘোষণা
ইরানে যৌথ হামলা: খামেনি নিহত, ট্রাম্পের পাঁচ সপ্তাহের অভিযান

ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা: খামেনিসহ নিহত, ট্রাম্পের দীর্ঘমেয়াদী অভিযানের ঘোষণা

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই যৌথ অভিযানে ইতোমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, সাবেক প্রেসিডেন্টসহ দেশটির বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান ও কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে সব লক্ষ্য অর্জন না করা পর্যন্ত ইরানে হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানে পাঁচ সপ্তাহব্যাপী এই অভিযান চলতে পারে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট: সৌদি যুবরাজের চাপের অভিযোগ

ইরানে হামলা শুরুর পর গতকাল রোববার একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট। তাদের রিপোর্টে বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ইসরায়েলের চাপে ইরানে হামলা শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রকাশ্যে ইরানে হামলার বিরোধিতা করলেও গোপনে ইরানে হামলা চালানোর জন্য চাপ দিতেন যুবরাজ। এই রিপোর্টটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনীতির দিকটি উন্মোচন করেছে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিক্রিয়া: প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের প্রস্তুতি

এমন রিপোর্ট প্রকাশের পর এবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ইরানের মিসাইল ব্যবস্থায় হামলা চালাতে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিয়েছেন তারা। এর আগে ফ্রান্স জানায়, খামেনিকে হত্যা করায় তারা খুশি। সবশেষ ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমরা আমাদের এবং উপসাগরীয় মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রস্তুত।

দেশ তিনটির নেতারা যৌথ এক বিবৃতিতে বলেছেন, "মধ্যপ্রাচ্যে এসব দেশের বিরুদ্ধে ইরানের নির্বিচারে এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তারা হতবাক।" বিবৃতিতে তারা আরও বলেছেন, "আমরা আমাদের এবং এই অঞ্চলে আমাদের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেব। সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণের ক্ষমতা ধ্বংস করা যায়।"

এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের সূচনা করেছে, যা বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য দেশগুলোর ভূমিকা এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।