ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত খামেনি, উত্তেজনা তুঙ্গে
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে যৌথভাবে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গত শনিবার সকালে পরিচালিত এই বিধ্বংসী আক্রমণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং সেনাপ্রধান আব্দুলরহিম মৌসাভিসহ একাধিক শীর্ষ জেনারেল প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের পাল্টা হামলা
এ হত্যাকাণ্ডের জবাবে রোববার (১ মার্চ) ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলও ইরানের বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের আক্রমণ পরিচালনা করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার দাবি করেন, ইরানে হামলায় দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং তিনি এতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে ইরান গতকাল দেশটিতে হামলায় হতাহতের সঠিক সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গতকাল ইসরায়েলে ৯ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হয়েছেন।
সংঘাতের দ্বিতীয় দিনের ঘটনাপ্রবাহ
গতকাল ছিল মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের দ্বিতীয় দিন। এর আগে প্রথম দিনে তেহরানে খামেনির বাসভবন ও কার্যালয়ে আকাশপথে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলার পর থেকেই খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের পক্ষ থেকেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের গতকাল প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, হামলায় খামেনি ছাড়াও তার মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত হয়েছেন। ইরানের নিহত শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন:
- খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি
- সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদুল রহিম মৌসাভি
- প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ
- বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর
অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদও নিহত হয়েছেন। তবে এই তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংঘাত প্রশমনে তৎপরতা চালাচ্ছে। ইরানের নতুন নেতৃত্ব গঠন ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর রাখা হচ্ছে।
