ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া: পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ংয়ের স্পষ্ট ঘোষণা
ইরানের বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলা এবং এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শুরু হওয়া পালটাপালটি আক্রমণে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এরই সঙ্গে এই সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই অস্ট্রেলিয়ার। সোমবার দেশটির সংবাদমাধ্যম নাইন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই স্পষ্ট অবস্থান জানান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "আমরা এই সামরিক অভিযানে অংশ নেইনি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা আমাদের নেই।" এই ঘোষণার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সরাসরি জড়িত না হওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেছে, যা তাদের আন্তর্জাতিক নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া-ইরান সম্পর্কের উত্তপ্ত ইতিহাস
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে। সিডনি ও মেলবোর্নে ইহুদি-বিদ্বেষী অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ইরানি বিপ্লবী গার্ডকে দায়ী করে গত ২০২৫ সালে ক্যানবেরা থেকে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করা হয়। তবে তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়িয়ে দিয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার নিরপেক্ষ অবস্থানকে আরও জোরদার করেছে।
অতীতের সামরিক অভিযানে অস্ট্রেলিয়ার অংশগ্রহণ
অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধসহ বিভিন্ন সময়ে মার্কিন-নেতৃত্বাধীন বড় বড় সামরিক অভিযানে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না ক্যানবেরা। এই সিদ্ধান্তটি অস্ট্রেলিয়ার কূটনৈতিক কৌশলে একটি নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়াসকে প্রতিফলিত করে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ও আহ্বান
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা এবং এর ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমর্থন পেতে পারে, কারণ এটি সংঘাত প্রশমনে একটি শান্তিপূর্ণ পন্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিশেষে, অস্ট্রেলিয়ার এই অবস্থান তাদের বৈদেশিক নীতির একটি স্পষ্ট বিবর্তন নির্দেশ করে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
