ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত খামেনি-মৌসাভি, হলিউড তারকাদের ট্রাম্প সমালোচনা
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই ভয়াবহ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং সেনাপ্রধান আব্দুলরহিম মৌসাভিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ জেনারেল নিহত হয়েছেন। হামলার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন হলিউডের নেতৃস্থানীয় তারকারা।
হলিউড তারকাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
সংগীতশিল্পী জ্যাক হোয়াইট তার সামাজিক মাধ্যম পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ঘোষণার পদ্ধতি ও বক্তব্যকে অত্যন্ত সমালোচনাযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগ নিয়েও ব্যঙ্গ করেন এবং ট্রাম্পের শান্তির প্রতিশ্রুতির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। হোয়াইটের মতে, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে।
অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বক্তব্য
অভিনেতা জন কুসাক তার পোস্টে লিখেছেন, এই যুদ্ধ শুরু করা সরকারের মনোযোগ অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে সরাতে সাহায্য করছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো এড়ানোর জন্য যুদ্ধকে একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। অভিনেত্রী ক্যারি কুন ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক কমিটিকে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, এটা সত্যিই ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ বা যুদ্ধ বিভাগ, যা শান্তির পরিবর্তে সংঘাত বাড়াচ্ছে।
কমেডি তারকার সমালোচনা
কমেডি তারকা রোজি ও’ডোনেল তার পোস্টে ট্রাম্পের মিথ্যা বলার প্রবণতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি সব সময় মিথ্যা বলেন। ও’ডোনেল ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণাকে তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বিপরীত হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি ট্রাম্পের পুরোনো বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে দেখান যে, প্রেসিডেন্ট শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তার কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে পরিচালিত হচ্ছে।
হামলার প্রেক্ষাপট ও পরিণতি
ইরানে এই হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। খামেনি ও মৌসাভির মতো শীর্ষ নেতাদের নিহত হওয়া ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোয় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এদিকে, হলিউড তারকাদের সমালোচনা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের বৈদেশিক নীতির প্রতি জনমতের বিভাজনকে প্রতিফলিত করছে।
