যুক্তরাজ্য ইরান বিরোধী যুদ্ধে যুক্ত, যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল
যুক্তরাজ্য যুদ্ধে যুক্ত, যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি

যুক্তরাজ্য ইরান বিরোধী যুদ্ধে পরোক্ষভাবে যুক্ত, যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার সোমবার একটি ভিডিও বার্তায় ঘোষণা দিয়েছেন, তারা ইরানের মিসাইল ব্যবস্থায় হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেছেন। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অর্থাৎ সরাসরি অংশগ্রহণ করবে না যুক্তরাজ্য।

মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর অনুরোধে সাড়া

স্টারমার তার ভিডিও বার্তায় ব্যাখ্যা করেছেন, "আমাদের উপসাগরীয় অঞ্চলের (মধ্যপ্রাচ্যের) বন্ধু রাষ্ট্রগুলো তাদের রক্ষায় আমাদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে অনুরোধ করেছে।" তিনি জানিয়েছেন, ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলো বর্তমানে আকাশপথে যৌথ প্রতিরক্ষা অভিযানে অংশ নিচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই ইরানের ছোড়া বেশ কিছু হামলা সফলভাবে রুখে দিয়েছে।

হুমকি নির্মূলের একমাত্র পথ

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "এই হুমকি পুরোপুরি বন্ধ করার একমাত্র পথ হলো মিসাইলগুলোকে সেগুলোর উৎসস্থলেই ধ্বংস করে দেওয়া।" তিনি ব্যাখ্যা করেন, এর অর্থ হলো ইরানের যে গুদামে এগুলো রাখা আছে বা যে লঞ্চার দিয়ে এগুলো ছোড়া হয়, সেগুলো সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ ও যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্ত

স্টারমার উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র 'নির্দিষ্ট এবং সীমিত প্রতিরক্ষা স্বার্থে' ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা তাদের এই অনুরোধ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো ইরানকে থামানো, যেন তারা পুরো অঞ্চলে মিসাইল ছুড়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করতে না পারে, ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে এবং এমন সব দেশে হামলা না চালায় যারা এই সংঘাতের সাথে জড়িতই নয়।"

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ইরান-ইসরাইল সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যদিও সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা বাড়িয়ে দিয়েছে।