যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল
যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, তবে শুধুমাত্র ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রবিবার একটি রেকর্ড করা বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি
স্টারমার তার বিবৃতিতে বলেন, "ইরান উদ্ভূত আচরণ করছে এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে। যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে দুটি সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য আঞ্চলিক মিত্রদের অনুরোধে তাদের সম্মিলিত আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
হুমকি মোকাবিলার উদ্দেশ্য
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রায় দুই লাখ ব্রিটিশ নাগরিককে ইরান লক্ষ্যবস্তু করছে বলে দাবি করে স্টারমার বলেন, "হুমকি বন্ধ করার একমাত্র উপায় হলো ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে তাদের সংরক্ষণাগারেই অথবা যেসব উৎক্ষেপণযন্ত্র থেকে সেগুলো ছোঁড়া হয়, সেগুলো ধ্বংস করা।" তিনি যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে নির্দিষ্ট ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে।
স্টারমার বলেন, "আমরা অনুরোধটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি— যাতে ইরানের অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া বন্ধ করা যায়। নিরপরাধ নাগরিকদের মৃত্যু ঠেকানো যায়। ব্রিটিশ জীবনগুলো ঝুঁকিতে না পড়ে এবং এমন দেশগুলোকে আঘাত না লাগে যেগুলো এতে জড়িত ছিল না।"
সমন্বিত প্রতিরক্ষামূলক অভিযান
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, সমন্বিত প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের অংশ হিসেবে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান আকাশে ছিল এবং সেগুলো ইতোমধ্যে সফলভাবে ইরানি হামলা প্রতিহত করেছে। গত শনিবার সকাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথভাবে হামলা চালিয়ে আসছে, তবে যুক্তরাজ্য এতে অংশ না নেওয়ার কথা আগেই স্পষ্ট করেছে।
ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের যৌথ বিবৃতি
এদিকে, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, "আমরা আমাদের স্বার্থ এবং অঞ্চলে আমাদের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করতে পদক্ষেপ নেবো। প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার সক্ষমতাকে তার উৎসে ধ্বংস করার উদ্দেশে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইরানের সামরিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত মিত্রতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
