ইরানে খামেনি নিহত, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় উত্তেজনা, বিশ্বজুড়ে শান্তির আহ্বান
ইরানে খামেনি নিহত, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় উত্তেজনা

ইরানে খামেনি নিহত, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় উত্তেজনা, বিশ্বজুড়ে শান্তির আহ্বান

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমেছে। গত শনিবার শুরু হওয়া এই হামলা এবং এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি আক্রমণে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

হামলার পটভূমি ও প্রতিক্রিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘বড় ধরনের সামরিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, অন্যদিকে ইসরায়েল একে ‘প্রতিরোধমূলক আক্রমণ’ বলেছে। হামলার পর ট্রাম্প ইরানের সাধারণ জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার এবং সরকারি বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। পরে তিনি নিশ্চিত করেন যে খামেনি নিহত হয়েছেন, যা ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও স্বীকার করেছে।

এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোয় পাল্টা হামলা শুরু করেছে, যার নাম দিয়েছে ‘ট্রুথফুল প্রমিজ ৪’। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা হুমকি-ধমকি ও আলোচনার মধ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ও আহ্বান

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন, সতর্ক করে দিয়েছেন যে না হলে এ অঞ্চলে আরও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন যোগ করেছেন যে ইসরায়েল ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর হুমকি মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন দেশের অবস্থান

রাশিয়া এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, তাদের রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া সতর্ক করেছেন যে সংঘাত ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সৌদি আরব বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান ও কুয়েতে ইরানের পাল্টা হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়েছে।

ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের নেতারা যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে আহ্বান জানিয়েছেন। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি এই হামলায় ‘মর্মাহত’ হয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতে না জড়ানোর অনুরোধ করেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য প্রতিক্রিয়া

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যায়িত করেছেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে, অন্যদিকে ব্রাজিল হামলার নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, সতর্ক করে দিয়েছেন যে যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতে সাধারণ মানুষকেই চরম মূল্য দিতে হয়। তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।