ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সদরদপ্তর ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের
ইরানের শক্তিশালী সেনাদল আইআরজিসি বা বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সদরদপ্তর ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে একই দাবি জানিয়েছে ইসরাইল। আজ সোমবার (২ মার্চ) বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর বিবৃতি
মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনে তারা দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সদরদপ্তর ধ্বংস করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ‘আমেরিকার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী আছে এবং আইআরজিসির কাছে এখন আর কোনো সদরদপ্তর নেই।’
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী গত ৪৭ বছরে হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা হত্যা করেছে। গতকাল এক বড় আকারের মার্কিন হামলায় ওই সাপের মাথা কেটে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি
এর আগে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করে একই দাবি জানায়। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা ‘ইরানের সামরিক সদরদপ্তর ধ্বংস করেছে’ এবং সেখানে ইরানের শাসকদের অনুগত সেনা উপস্থিত ছিল বলেও দাবি করে।
পৃথক হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌর ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
বিস্তৃত হামলার তথ্য
ইসরাইলি সেনা জানায়, বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সদরদপ্তরের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগের সদরদপ্তর, আইআরজিসি বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদরদপ্তরসহ বেশ কিছু ‘নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে’ বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আইডিএফ আরও জানায়, তারা ‘ইরানের জঙ্গি শাসকের সামরিক অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখবে।’ এই হামলাগুলো ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলাগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এবং এর ফলাফল দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে।
