আবুধাবির নৌঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা, আমিরাত তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির আল-সালাম নৌঘাঁটিতে একটি গুদাম লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। এই হামলার ফলে সাধারণ সরঞ্জাম রাখা দুটি কনটেইনারে আগুন ধরে গেলেও, সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তীব্র নিন্দা
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে 'সুস্পষ্ট আগ্রাসন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন' আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা ইরানের এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আবুধাবির একটি সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত দুটি হামলা চালানো হয়েছে। তবে, কেন ওই ঘাঁটিতে হামলা চালানো হলো, সে বিষয়ে তারা কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। এই অস্পষ্টতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
পূর্ববর্তী হামলা ও প্রতিরোধের তথ্য
এর আগে, আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, শনিবার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ১৬৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৪১টি ইরানি ড্রোন হামলা সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। এই তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান ও আমিরাতের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পটভূমি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শনিবার সকালে ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর জবাবে, ইরান ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। এই সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
