ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে আঘাত হানার ঘটনায় একজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম সালেখ উদ্দিন, যিনি আহমদ আলী নামেও পরিচিত ছিলেন। তার বয়স ছিল ৪৮ বছর। তিনি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের মৃত সবর আলীর ছেলে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সালেখ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে বসবাস করছিলেন এবং সেখানে তিনি পানির গাড়ি চালানোর কাজ করতেন। শনিবার সন্ধ্যার সময় তিনি নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে পানির গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আজমান শহরে আঘাত হানে। এই হামলায় সালেখ উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে, চিকিৎসকরা সালেখ উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। রোববার (১ মার্চ) রাত ৯টায় দেশে থাকা তার স্বজনরা এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও শোক
সালেখ উদ্দিনের মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েকে। তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী শেলি বেগম রোববার রাত সাড়ে ৯টায় মোবাইলে জানান, শনিবার থেকেই তারা সালেখের মৃত্যুর খবর শুনছিলেন, কিন্তু নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। রোববার দুপুরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা সালেখের ভাইয়েরা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
শেলি বেগম আরও বলেন, "তারা শুনেছেন ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা স্বজনরা এখন হাসপাতালে লাশ দেখার জন্য যাচ্ছেন।"
স্থানীয় নেতার বক্তব্য
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শাহজাহান ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, সালেখ উদ্দিনের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি দুপুরে তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিয়েছেন। এই ঘটনা এলাকাবাসীকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এই হামলা ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পর প্রতিশোধমূলক পালটা হামলা হিসেবে পরিচালিত হয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সংঘাতের মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের এমন মৃত্যু উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
