ইসরাইলের হামলায় ইরানের ৪০ শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত, খামেনিও আঘাতপ্রাপ্ত
ইসরাইলের হামলায় ইরানের ৪০ কর্মকর্তা নিহত, খামেনি আঘাতপ্রাপ্ত

ইসরাইলের হামলায় ইরানের ৪০ শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত, খামেনিও আঘাতপ্রাপ্ত

ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত 'অপারেশন রোরিং লায়ন'-এর প্রথম দফার হামলায় এক মিনিটের মধ্যে ৪০ জন শীর্ষ ইরানি সামরিক কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে। রোববার (১ মার্চ ২০২৬) আইডিএফের দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হামলাকে ইরানের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আসা হুমকির বিরুদ্ধে 'পূর্বপ্রস্তুতিমূলক আঘাত' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

সমন্বিত বিমান হামলার বিস্তারিত

আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের শুরুতেই তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে বিমান হামলা চালানো হয়। ওই সময় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা নেতৃত্বের সাতজন সদস্য একটি স্থানে অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিতভাবে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে আইডিএফ নিশ্চিত করে যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল আব্দুলরহিম মোসাভি নিহতদের মধ্যে রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ভূমিকা

ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দ যে শনিবার সকালে তেহরানের একটি সরকারি কমপাউন্ডে বৈঠকে বসতে যাচ্ছিলেন, সে তথ্য আগেই জেনে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। যুক্তরাষ্ট্র ওই তথ্য ইসরায়েলকে প্রদান করে। এর ভিত্তিতে ইসরায়েল হামলার সময়সূচি পরিবর্তন করে দিনের আলোতেই আঘাত হানে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ডজনখানেক শীর্ষ কর্মকর্তা সেই হামলায় নিহত হয়েছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ইসরায়েলি জঙ্গিবিমান খামেনির কমপাউন্ডে ৩০টি বোমা নিক্ষেপ করে। তাতে ওই কমপাউন্ড পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। অভিযান শুরু হয় ইসরায়েল সময় শনিবার সকাল ৬টার দিকে। তেহরান সময় সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে, অর্থাৎ জঙ্গিবিমান ওড়ার দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর কমপাউন্ডে আঘাত হানে বোমা।

হামলার সময় ও স্থান

এই হামলা ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলাটি ইরানের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আসা হুমকির বিরুদ্ধে একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ছিল। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এখনও অপেক্ষমান রয়েছে।