ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য: 'কেউ শোক করবে না'
ইরানের নেতার মৃত্যুতে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তীব্র মন্তব্য

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি রবিবার বলেছেন, 'অল্প লোকই খামেনেইয়ের জন্য শোক করবে'। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের এই নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

'ইরান মন্দের উৎস, সন্ত্রাস রপ্তানি করে'

স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিলি বলেন, 'ইরান এবং খামেনেই দীর্ঘদিন ধরে যে শাসন ব্যবস্থা চালিয়ে এসেছেন, তা মন্দের উৎস। তারা নিজ নাগরিক হত্যা করছে এবং সন্ত্রাসকে পৃষ্ঠপোষকতা ও রপ্তানি করছে, ব্রিটেনের মতো দেশগুলোতেও।' প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, 'এখন উদ্বেগের বিষয় হলো, এই শাসনব্যবস্থা ক্রমবর্ধমানভাবে নির্বিচারে ও ব্যাপকভাবে আক্রমণ চালাচ্ছে। মানুষ সত্যিই উদ্বিগ্ন যে শুধু সামরিক লক্ষ্যই নয়, বেসামরিক লক্ষ্যও আক্রমণের শিকার হতে পারে।'

ব্রিটেনের ভূমিকা 'শুধু প্রতিরক্ষামূলক'

বিবিসিকেও দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিলি ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেন যে ব্রিটিশ বাহিনী কেবল 'প্রতিরক্ষামূলক' অভিযানে জড়িত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে যুদ্ধবিমানগুলো কাতার এবং সাইপ্রাসে ব্রিটেনের বিমান ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হয়েছে। তবে লন্ডন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বব্যাপী ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে অস্বীকার করেছে এমন প্রতিবেদন সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বৈধতা নিয়েও তিনি আলোচনায় যাননি। বিবিসিকে তিনি বলেন, 'এই পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব। ব্রিটেন ইরানের ওপর হামলায় কোনো অংশ নেয়নি। তবে আমরা সকল মিত্র দেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক লক্ষ্য ভাগ করে নিই যে ইরানের কখনই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়।'

ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ঝুঁকিতে

হিলি উল্লেখ করেন যে প্রায় ৩০০ ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য বাহরাইনে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে ইরান কর্তৃক নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের 'কয়েকশ গজের মধ্যে' ছিলেন। এছাড়া শনিবার সাইপ্রাসের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, 'এটি প্রমাণ করে যে আমাদের ঘাঁটি, আমাদের কর্মী, সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিরা বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছেন। একটি শাসনব্যবস্থা যেভাবে ক্রমবর্ধমানভাবে নির্বিচারে, ব্যাপকভাবে ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে আক্রমণ চালাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক।'

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্য ইরানের সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিকে নজর রাখছে।