ইসরাইলি কর্মকর্তার দাবি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় খামেনি নিহত, মরদেহ পাওয়া গেছে
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মাধ্যমে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন এবং তার মরদেহ পাওয়া গেছে। এই দাবি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যু সংবাদকে অস্বীকার করে চলেছে।
ইসরাইলি মিডিয়ার প্রতিবেদন ও নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া
ইসরাইলের চ্যানেল–১২ জানিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনি তার প্রাসাদে সংঘটিত হামলায় মারা গেছেন এবং ইরানি উদ্ধারকর্মীরা সেখান থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। নেতানিয়াহু নিজেও মন্তব্য করেছেন যে, তাদের হাতে প্রাপ্ত তথ্য খামেনির মৃত্যুর ইঙ্গিত বহন করছে।
হামলার বিবরণ ও ধ্বংসের চিত্র
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত বাহিনী খামেনির প্রাসাদে একটি বড় আঘাত হানে। পরবর্তীতে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, প্রাসাদসহ পুরো এলাকা ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা হামলার তীব্রতা নির্দেশ করে। এই ঘটনাটি ইরান-ইসরাইল সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ইরানের অস্বীকার ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অভিযোগ
ইরানের পক্ষ থেকে খামেনির মৃত্যু সংবাদকে জোরালোভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও খামেনি উভয়েই সুস্থ আছেন এবং সরকার স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ইরানীয় কর্তৃপক্ষ মন্তব্য করেছে যে, তথাকথিত শত্রুরা খামেনির মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, যা আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
দাবির পুনরাবৃত্তি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইসরাইলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন। এই দাবি ইরানের অস্বীকারের পরও জোরেশোরে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
