ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২০১, ২৪ প্রদেশে লাল-অর্ধচন্দ্রের উদ্ধার তৎপরতা
ইরানে হামলায় নিহত ২০১, ২৪ প্রদেশে উদ্ধার তৎপরতা

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি, ২৪ প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত

ইরানের লাল-অর্ধচন্দ্র সোসাইটি দেশটিতে সংঘটিত সাম্প্রতিক হামলায় কমপক্ষে ২০১ জন নিহত ও ৭৪৭ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মানবিক সংস্থাটির একজন মুখপাত্র স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলা ইরানের ২৪টি প্রদেশকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে।

উদ্ধার তৎপরতা ও মোতায়েনকৃত দল

লাল-অর্ধচন্দ্র সোসাইটির পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে উদ্ধারকার্য ত্বরান্বিত করতে ২২০টিরও বেশি বিশেষায়িত দল মোতায়েন করা হয়েছে। এই দলগুলো চিকিৎসা সেবা, জরুরি সহায়তা ও প্রাথমিক উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, আহত ও নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য ও ইসরায়েলের দাবি

এদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে ইসরায়েল ইরানের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘বৃহৎ যুদ্ধ অপারেশন’ শুরু করেছে। তার এই মন্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমও লাল-অর্ধচন্দ্র সোসাইটির বরাতে ২৪টি প্রদেশে নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।

ইরানের জবাবি হামলা ও আঞ্চলিক প্রভাব

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ইসরায়েল ও মার্কিন সম্পদের ওপর লক্ষ্য করে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান, সৌদি আরব ও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে জবাবি হামলা চালিয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানের একটি স্কুলে হামলায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বিমান চলাচল বন্ধ

হামলা-পাল্টা হামলার এই চক্র ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। উত্তেজনা প্রশমনে অঞ্চলের কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলকে ব্যাহত করেছে এবং ভ্রমণকারীদের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগায়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা আমেরিকান জনগণের স্বার্থে কাজ করবে না। এটি ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি বিষয়। আমরা কখনো যুদ্ধ চাইনি। আমরা এই সমস্যাটি কূটনৈতিকভাবে সমাধান করতে যাচ্ছিলাম। এবং এটি ছিল অঞ্চলের সব দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবি।’

বাগায়ে আরও যোগ করেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি জানিয়েছে, এবং আমরা বিশ্বাস করি যে এটি কেবল ইসরায়েলি শাসনের খামখেয়ালি চাহিদা পূরণের জন্য। আমি মনে করি এই যুদ্ধ আমেরিকান জনগণের স্বার্থে কাজ করবে না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরান অঞ্চলের সব দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, কিন্তু সমস্যা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসনের এই যুদ্ধ অঞ্চলের দেশসহ সবার ব্যয়ে চালাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চয়তাপূর্ণ। লাল-অর্ধচন্দ্র সোসাইটির উদ্ধার তৎপরতা চলমান থাকলেও হামলার ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকট উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তরফ থেকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ ও শান্তি আলোচনার দাবি উঠছে।