ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ২০টির বেশি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত অন্তত ৭০
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের ৩২টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি রেড ক্রিসেন্টের মুখপাত্র মুজতবা খালেদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে দেশটির অন্তত ২০টি প্রদেশকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এই হামলাগুলোতে।
নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ইরানের নাগরিকদের জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা যেন হামলাস্থলগুলো থেকে অবিলম্বে দূরে সরে থাকেন এবং নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। শনিবার সকাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে সমন্বিত হামলা শুরু করে, যা দেশটির অবকাঠামো ও জনগণের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
হরমোজগান প্রদেশে ভয়াবহ হামলা
স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের হরমোজগান প্রদেশে পৃথক দুটি হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলাগুলো বিশেষত নাগরিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, ইসরায়েলের হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ডের একজন শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সূত্রের বক্তব্য
ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এমন জল্পনার মধ্যেই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা হয়তো কয়েকজন কমান্ডারকে হারিয়েছি, কিন্তু এটি খুব বড় সমস্যা নয়।’ এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদকের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেছে।
স্কুল হামলায় শিশু ও শিক্ষার্থীরা নিহত
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় তেহরানসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলোর মাধ্যমে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সরাসরি আঘাত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর আগে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। একই দিনে রাজধানী তেহরানের পূর্বদিকে আরেকটি স্কুলেও হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে অন্তত দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে মেহর বার্তা সংস্থা নিশ্চিত করেছে।
হামলার পরিণতি ও ভিডিও প্রমাণ
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, মিনাবের স্কুলটিতে হামলার পর নিহতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়ে যায়, পরে তা ৫০–এর বেশি বলে নিশ্চিত করা হয়। ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়েছে, যা হামলার ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। এই হামলাগুলো ইরানের জনগণ ও অবকাঠামোর উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
