বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ধাক্কা: ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল
তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
নৌপথ বন্ধের ঘোষণা
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেভাল মিশন এসপাইডেস-এর এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে আর কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।’ এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব
হরমুজ প্রণালী একটি সরু সামুদ্রিক পথ যা ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরকে সংযুক্ত করেছে। এই নৌপথের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবাহিত হয়। উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য এটি তেল রপ্তানির প্রাথমিক পথ হিসেবে কাজ করে।
এই পথ ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তেল পাঠায়:
- সৌদি আরব
- ইরান
- ইরাক
- সংযুক্ত আরব আমিরাত
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব
আরব উপদ্বীপ ও ইরানের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পরিবহন স্থগিত হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। তেলের সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে ইরান-ইসরাইল সংঘাতের প্রভাব থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করাকে ইরানের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প পথ ও উৎস অনুসন্ধানে তৎপরতা বাড়িয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালীর বিকল্প হিসেবে এত বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহনের সক্ষমতা অন্য কোনো নৌপথের নেই বলেই বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
