রাশিয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া: মার্কিন-ইসরায়েলি হামলাকে 'বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতা' আখ্যা
রাশিয়া শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলাকে একটি 'বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতা' হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। মস্কো সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই পদক্ষেপ অঞ্চলে 'দুর্যোগ' সৃষ্টি করতে পারে এবং রুশ নাগরিকদের ইরান ও ইসরায়েল ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।
অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও রাশিয়ার অবস্থান
ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের সময় থেকে তেহরান মস্কোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ক্রেমলিন উত্তেজনা বৃদ্ধি ও ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের খবরের মধ্যে সংযমের আহ্বান জানিয়ে আসছিল। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, 'ওয়াশিংটন ও তেল আভিভ আবারও একটি বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতায় নেমেছে যা দ্রুত অঞ্চলকে মানবিক, অর্থনৈতিক এবং—এটি বাদ দেওয়া যায় না—বিকিরণজনিত দুর্যোগের প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।'
আগ্রাসীদের উদ্দেশ্য নিয়ে রাশিয়ার অভিযোগ
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও যোগ করেছে, 'আগ্রাসীদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট এবং প্রকাশ্যে ঘোষিত: একটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো ধ্বংস করা এবং সরকারকে উৎখাত করা, যাকে তারা অপ্রত্যাশিত মনে করে, যে রাষ্ট্র বলপ্রয়োগ ও আধিপত্যবাদের দিকনির্দেশনা মেনে নিতে অস্বীকার করেছে।' মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই মানবসৃষ্ট সংকটের নেতিবাচক পরিণতি, যার মধ্যে রয়েছে অপ্রত্যাশিত শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া ও সহিংসতার বর্ধিত সর্পিল, সম্পূর্ণরূপে তাদের দায়িত্বে পড়বে।
শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রস্তাব ও নাগরিকদের সতর্কতা
রাশিয়া বলেছে যে, এটি 'আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভারসাম্যের ভিত্তিতে' শান্তিপূর্ণ সমাধান অনুসন্ধানে অবদান রাখতে প্রস্তুত। মস্কো ইরানে অবস্থানরত রুশ নাগরিকদের ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে এবং ইসরায়েলের জন্য অনুরূপ সতর্কতা জারি করেছে।
রাশিয়া-ইরান কৌশলগত অংশীদারিত্ব
২০২৫ সালে, রাশিয়া ও ইরান সামরিক ক্ষেত্রসহ সম্পর্ক শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে। কিয়েভ ও তার পশ্চিমা মিত্ররা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, তারা ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের জন্য শাহেদ ড্রোন ও স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে। এই জোট বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন অঞ্চলটি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটে জর্জরিত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মস্কোর এই অবস্থান ইরানের সাথে তার কৌশলগত সম্পর্ক রক্ষা এবং পশ্চিমা প্রভাব মোকাবিলার একটি অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
