ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবুধাবিতে নিহত, আমিরাতের তীব্র নিন্দা
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবেশী ইরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত পাঁচটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ফলে আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি ও বড় শহর দুবাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
আবুধাবিতে বিস্ফোরণে নিহতের খবর
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবুধাবিতে সংঘটিত বিস্ফোরণে অন্তত একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, হামলার সময় শহরের বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
আমিরাত সরকারের কঠোর প্রতিক্রিয়া
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'বেসামরিক স্থাপনা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্পূর্ণরূপে বিপজ্জনক ও কাপুরুষোচিত কাজ।' বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই হামলার ফলে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে এবং অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ব্যাহত হয়েছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইরান প্রতিবেশী আমিরাতকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং 'কয়েকটি' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে হামলার পুরো পরিস্থিতি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আমিরাতের জবাবি হুমকি
আরব আমিরাত সরকার তাদের বিবৃতিতে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে যে, ইরানের এই আক্রমণের জবাব দেওয়ার 'পূর্ণ অধিকার' তাদের রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'ইরানের এই হামলা আমিরাতের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।' আমিরাত সরকার এ ধরনের যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং ভূখণ্ড রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইরান ও আমিরাতের মধ্যে এই সংঘাতের প্রভাব পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক ভারসাম্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
