মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইরানে চলমান ব্যাপক আক্রমণকে কাজে লাগিয়ে ইরানিরা যেন তাদের দেশের ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই বক্তব্য দেন, যা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রচারিত হয়।
ট্রাম্পের বার্তা: সরকার দখলে নিন
ট্রাম্প তার ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমাদের অভিযান শেষ, নিজেদের সরকার দখলে নিন। এটি আপনাদের নেওয়ার জন্য থাকবে। বহু প্রজন্ম পরে এটাই সম্ভবত আপনাদের একমাত্র সুযোগ।" তিনি ইরানের সাধারণ জনগণকে উদ্দেশ্য করে এই আহ্বান জানান, যা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি সতর্কতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তারা যদি অস্ত্র ফেলে না দেয়, তাহলে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে। তবে তিনি আশ্বাস দেন যে, অস্ত্র সমর্পণ করলে তাদের মুক্তি দেওয়া হবে। এই বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
পূর্ববর্তী হুমকি ও পরবর্তী অবস্থান
চলতি জানুয়ারির শুরুতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানে অন্তত ৬ হাজার ৪৮০ জন নিহত হয়েছে বলে মানবাধিকার কর্মীদের দাবির পর ট্রাম্প ইরানকে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি তখন সতর্ক করেছিলেন যে দায়িদের বড় মূল্য দিতে হবে, এবং বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন যে সহায়তা পথে রয়েছে।
তবে কয়েক দিন পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরান সরকারের কাছ থেকে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন যে হত্যা বন্ধ হয়েছে। এরপর তার দৃষ্টি সরে যায় দেশের পরমাণু কর্মসূচির দিকে, যা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এই পরিবর্তন ইরানের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
ইরানের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই আহ্বান ইরানের অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
