ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা, উভয়ই অক্ষত
ইরানের নেতা-প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা

ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা, নেতারা অক্ষত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়াও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, শীর্ষ সামরিক নেতা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থাপনাগুলোও এই হামলার টার্গেটে পরিণত হয়েছে। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং নেতা খামেনি অক্ষত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নেতাদের নিরাপত্তা ও হামলার বিস্তারিত

ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আইআরএনএ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন না এবং তাকে একটি 'নিরাপদ স্থানে' স্থানান্তর করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলায় ইরানের মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের বাসভবন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং গোয়েন্দা সংস্থার স্থাপনা, পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলার পরিসর ব্যাপক হওয়ায় ইরানের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ইরানের জবাব ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ হামলার ঘটনায় ইরান সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি কঠোর বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, 'আমরা তোমাদের সতর্ক করেছিলাম। এখন তোমরা এমন একটি পথে যাত্রা শুরু করেছ যার শেষ আর তোমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।' এই মন্তব্য ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য জবাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

এই হামলা ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান বৈরিতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, এবং এর প্রভাব আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও পড়তে পারে।